[sg_popup id=7771]

Our Updates

কোরবানির ঈদ আত্মত্যাগের ঈদ

চাচ্চুদের সাথে গরুর হাট দেখতে যাওয়া, কোন হাটে কয়টা বড় গরু দেখা গেছে ভালভাবে মনে রাখা খুবই দরকার ছিল । ঈদের ছুটির পর যখন স্কুলে যাবো তখন গল্পের ঝুড়িতে আমার শাসন চলবে। বন্ধুরা অবাক হয়ে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে গরুর গল্প শুনবে। ভাবই আলাদা। যদিও গরুর হাটে যেতে বেশ ভয় পেতাম তবুও বন্ধুদের কাছে নিজেকে বড় বানানোর ইচ্ছা আমাকে একেবারে অস্থির করে রাখত।

স্কুলে গরুর রচনা কিন্তু আমিই সবচেয়ে ভালো লিখতাম। পরীক্ষায় বেশি মার্কস পেলে সবাইকে ভাব নিয়ে বলতাম দেখেছিস বেশি জানি তো, তাই! আমাদের সকলেরই ছোটবেলা অনেক মজার মজার গল্প আছে। আসলে শৈশবে আমাদের আত্মত্যাগের চিন্তা থেকে মজার চিন্তাটাই বেশি থাকতো।

কোরবানির ঈদে নামাজ শেষে বাসায় এসে গরু কোরবানি বা কাটাকাটি নিয়ে সবার মাঝে অনেক উত্তেজনা ছিল। আমি শুধু বসে থাকতাম আর দেখতাম যেন পরে গিয়ে স্কুলে বন্ধুদের গল্প বলতে পারতাম। বন্ধুরা বলতো তুই তো বেশ একটিভ রে দোস্ত। আমি তো তখন মনে মনে গরুকে থ্যাংক ইউ বলতাম।

আব্বার সাথে ঈদগায়ে যাওয়ার জন্য মনটা অস্থির হয়ে থাকতো। নামাজের পর একে অপরের সাথে কোলাকোলি করার মুহূর্তটাতে নিজেকে মনে হতো ইশ কেন যে ছোট হলাম না! আমি আব্বার সাথে দাঁড়িয়ে দাড়িয়ে দেখতাম আর ভাবতাম যদি আমার সাথে কেউ যদি কোলাকোলি করতো!   অনেক সময় বলেই ফেলতাম আঙ্কেল ঈদ মোবারাক, এইবার আমার সাথে কোলাকোলি না করে তো উপায় নাই !

আর একটা সময় ছিল উদ্ভট কাহিনী করতাম । ঈদগায়ে সবাই যখন সেজদায় আমি তখন দাঁড়িয়ে দেখতাম হাজার হাজার মানুষ একসাথে সেজদায় ! যদিও এই কাজ করা মোটেও উচিত না, তবুও  বুঝতে হবে ছোট ছিলাম তো ।

যাক গুরু কোরবানির সময় । কিন্তু অনেক রক্ত একসাথে দেখলে ভয় লাগতো। আর আমার মাথায় বোকার মত একটা ব্যাপার-ই ঘুরপাক করতো যে যেই গুরুটাকে নিয়ে সকালেও মজা করেছি সেইটাকে এখন সবাই মিলে জবাই করে ফেলেছে আবার এটাকে খাবো? যদিও পরে ভাবতাম দেখা-দেখির দরকার নাই সময় মত আরাম করে গোস্ত খেতে পারলেই হল।

কোরবানি মানেই আত্মত্যাগ সেটা আব্বা-আম্মার কাছ থেকে শুনে শুনেই মুখস্ত করা ছিল, কিন্তু তখন তার প্রকৃত ফজিলত তখন জানা ছিল না । এখন আর রক্ত ভয় পাই না অনেক বড় হয়ে গেছি ! জবাই করার সময় গুরুর দমে ধরাও শিখে গেছি । আল্লাহ্‌র জন্য কোরবানি করতে আবার ভয় কিসের ।

শেষ করার আগে একটা রিকোয়েস্ট সবার কাছে । এই ছোট্ট ঢাকা শহরটাকে পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার । এইবার ঈদে ঢাকার প্রত্যেকটা ওয়ার্ডের জন্য তিনটি করে জায়গা নির্ধারন করা হয়েছে এবং আবর্জনা বহনের জন্য পর্যাপ্ত পরিমানে ব্যাগের ব্যাবস্থা করা আছে । বৃষ্টিতে যেন আপনার কোরবানির কোনো ঝামেলা না হয় তাই প্রতিটি নির্ধারিত জায়গার উপরে সামিয়ানা টানানো থাকবে। আমরা সবাই যদি এবার একটু সতর্ক হয়ে নিয়ম মেনে তাহলে চলি তাহলে অন্যান্য বছরের মত অপরিচ্ছন্ন ঢাকা এবার আর দেখা যাবে না।

সবার ঈদ ভাল কাটুক।
হাম্বা মোবারক ! ঈদ মোবারক