[sg_popup id=7771]

ভাগ্যহীন বাবার স্বপ্ন ইতি যেভাবে এলো জাগো স্কুলে

বরিশালের বারুইপাড়া থেকে ঢাকার মোহাম্মদপুরের শেখেরটেক। গ্রামের বর্গাচাষী কৃষক, ইতির বাবা রমিজ আলী ভাগ্যের ফেরে ঢাকায় এসে হয়ে গেলেন ছোট এক গলির আরো ছোট এক দোকানের ইলেক্ট্রিশিয়ানের এসিস্ট্যান্ট, মানে টুকটাক যন্ত্রপাতির ব্যাগ-বহনকারী। আর ইতির মা, সালমা বেগম সাভারে এক গার্মেন্টসে কাজ পেলেন। ইতি’র বয়স তখন মাত্র এক কিংবা দেড় বছর! এই বয়সেই বাবার কোল পেলে কি সুন্দর ঘুমিয়ে যেত নিমিষেই! রমিজ তার বউকে বলতো, দেইখো! আমার মেয়ে আমার নাম উজ্জ্বল করবে! যত কষ্টই হউক, ওরে আমি ল্যাখাপড়া শিখামুই!

ঢাকা শহরে সবকিছুরই দাম অনেক! সংসারের খরচও কেমনে কেমনে যেন খালি বেড়েই চলে! এভাবে ক’বছর টেনেটুনে চলার পর ওদের ভাগ্যের আকাশে একটু আলো দেখা গেল। দু’জনের আয় থেকে অল্প-বিস্তর টাকা জমছিল প্রতি মাস শেষেই। কিন্তু এর সাথে সাথে রমিজের মনে জমছিল চাপা ক্ষোভও। নানান বিষয়ে প্রায়ই সালমা কেমন যেন অন্যরকম হয়ে যাচ্ছিল, তার সাথে খিটিমিটি লেগে যাচ্ছিল। তুষের আগুনের মতো ভেতরে ভেতরে দু’জনই যেন অপেক্ষায় ছিল একটা উপলক্ষ তৈরী হবার, ফুঁসে ওঠার। এভাবেই চলছিল… ছোট্ট ইতি বড় হচ্ছে, স্কুলে দিতে হবে! একটাই মেয়ে তার। আর, অনেক লক্ষী একটা মেয়ে ইতি। স্কুলে যাবার অনেক শখ। তাদের ওই গলি দিয়ে সকালে যখন দলবেঁধে ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চারা স্কুলে যায়, ও মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে ওদের দিকে…যতোক্ষণ না ওরা দৃষ্টির সীমানার বাইরে চলে যায়। রমিজ মিয়া আড়াল থেকে দেখে, আর ভাবে, পাড়ার সবচেয়ে ভাল একটা স্কুলেই ওকে দেবে সে। লাগুক না হয় একটু বেশী টাকা! লেখাপড়া বলে কথা! নিজে ছেলেবেলায় অর্থের অভাবে স্কুলে যেতে পারেনি, ধানের ক্ষেতে তার বাবাকে হেল্প করতে হবে বলে! এখনও প্রতি পদে সে টের পায় লেখাপড়া না জানার ফল! তার বাবা না বুঝে যেই ভুল করে গেছেন, জেনে শুনে সে তো আর সেই একই ভুল করতে পারেনা! কিন্তু, স্কুলে ভর্তি আর বেতনের টাকা? … বছরখানেক পরের কথা।ওরা তখন একটা আন্ডার কনস্ট্রাকশন ৬-তলা বিল্ডিংয়ের নীচতলায় থাকতো। ঐ বাসার পুরো ইলেক্ট্রিক লাইন বসানোর কাজ পেল রমিজ মিয়া। প্রায় দেড়-দু’লাখ টাকার কাজ! এ কি যা-তা কথা!! যেদিন কাজটার কথা ফাইনাল হলো, তার খুশী দেখে কে! মেয়েকে নিয়ে মিষ্টির দোকানে গিয়ে রসগোল্লা আর চমচম কিনে আনলো ওরা দু’জন। দু’জন মানে বাবা আর মেয়ে। এর কারণ, ইতি’র মা অনেকদিন হলো প্রতিবেশী এক লোকের সাথে চলে গেছে। তারা নাকি বিয়েও করেছে। সেই থেকে আর কখনও ইতির কোন খোঁজ নিতে আসেনি সে। এর পর থেকে রমিজ মিয়াই ইতির বাবা এবং মা।

ঐ পাড়ার এক বখাটে নেশাখোর লালু কিভাবে যেন শুনলো রমিজের এত টাকার কাজ পাবার কথা, দু’দিন বাদে রাতে সে এসে হাজির হলো ইতিদের বাড়ীতে। মোটা অঙ্কের চাঁদা দিতে হবে, হুমকি-ধমকি দিয়ে গেল, ছুরি বের করে শাসিয়েও গেল। রমিজ একদমই পাত্তা দিল না তাকে, একরকম বেরই করে দিল বাসা থেকে। পরদিন রাতে, সে যখন কাজ শেষে বাসায় ফিরছিলো, অন্ধকার গলিতে তার পথ আটকালো সেই বখাটে লালু আর তার এক সাগরেদ। একজনের হাতে একটা চেলাকাঠের লম্বা টুকরা, আর অন্য জনের হাতে প্যাঁচানো ছিল রিকশার চেইন। ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি ওকে বাঁচাতে। এরপর… রমিজের হাতের অবস্থা এতোটাই খারাপ ছিল যে, ঢাকা মেডিক্যালের ডাক্তার সাহেব বলেছিলেন কনুইয়ের কাছ থেকে ডান হাতটা কেটে ফেলতে, কিন্তু রমিজ কোনভাবেই সেটা মেনে নিতে পারেনি। অনেকটা পালিয়েই চলে এসেছিল হাসপাতাল থেকে। দেখতে দেখতে আরও ক’টা বছর কেটে গেল। এখনও ঐ হাতে ভারী কোন যন্ত্র তো দূরের কথা, একটা পানির গ্লাসও ঠিক মতো ধরতে পারে না। কেবল ছোটখাট ইলেক্ট্রিকের কাজগুলো করতে পারে সে, তাও একটা হেলপার আছে বলে। খেয়ে না খেয়ে কোনমতে চলছে ওদের বাপ মেয়ের দিনগুলো। আর, ইতি’র স্কুলে যাবার স্বপ্ন! তার কি হল? আর মেয়েকে শিক্ষিত নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তার বাবার যে আজীবন-লালিত স্বপ্ন? তারই বা কি হলো?
————————–
ইতি এখন আমাদের জাগো স্কুলে পড়ে। ওকে এখানে ভর্তি করতে বা লেখাপড়া করাতে কোন টাকাই লাগেনি রমিজের। দেশের বিভিন্ন জেলার প্রত্যন্ত স্থানগুলোতে অবস্থিত ১৩টি জাগো স্কুল আমাদের সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিনাখরচে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করে আসছে গত ৯ বছর ধরেই!

জাগো স্কুলের প্রতিটি শিশুর পরিবারেই রয়েছে এমন অনেক না বলা শব্দ। আর, এই শিশুদের ও তাদের পরিবারগুলোকে একটা আলোয় ভরা সুন্দর ভবিষ্যত উপহার দিতে জাগো ফাউন্ডেশন তার স্কুলের মাধ্যমে চেষ্টা করে যাচ্ছে, যেখানে বর্তমানে প্রায় ২,২০০ শিশু লেখাপড়া শিখছে। আর জাগো স্কুলে ওদের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে শুধুমাত্র আপনারই মতো কোন সুহৃদয় ব্যক্তির একটি মহৎ সিদ্ধান্তে। ঠিক এই মুহুর্তে, ইতি’র মত আরও ৭০০ জাগো-শিশুর পরিবার অধীর অপেক্ষায় আছে জাগো স্কুলে তাদের সন্তানের লেখাপড়া চালিয়ে যাবার নিশ্চয়তা পাবার জন্য।! আমাদের চাইল্ড-স্পন্সরশীপ প্রোগ্র্যামের মাধ্যমে এই সমাজের অনেক আলোকিত মানুষ মাসিক মাত্র ২,০০০ টাকার বিনিময়ে ইতি’র মত অন্তত একটি শিশুর লেখাপড়ার খরচের দায়িত্ব নিয়েছেন। এই টাকায় বইখাতা, পেন্সিল- রাবার, স্কুল-ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ ছাড়াও ইতি পাচ্ছে নিয়মিত পুষ্টিকর ফলমূল আর ব্রাশ, টুথপেস্ট, সাবান ইত্যাদি পরিচ্ছন্নতা সামগ্রী পাওয়ার নিশ্চয়তা। সেই সাথে ওর চিকিৎসা-সুবিধাদি তো থাকছেই।

আমাদের চাইল্ড স্পন্সরশীপ প্রোগ্র্যামের বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুনঃ https://jaago.com.bd/sponsor-a-child/
চাইলে এখনই কল করতে পারেন আমাদের হটলাইনেঃ +880 1766 666 662

Sponsor Us

Sponsor a Child

Serve the humanity.

Sponsor the monthly education cost of an impoverished Bangladeshi child with less than 1 US $ a day and help bring a meaningful difference in both of your lives!

BE A SPONSOR