সফলতার ১২ বছরে জাগো ফাউন্ডেশন

Our Updates

সফলতার ১২ বছরে জাগো ফাউন্ডেশন

এক পা দু পা করে সফলতার ১২ বছরে পদার্পণ করল জাগো ফাউন্ডেশন। প্রচেষ্টা, অর্জন আর গৌরবের এই যাত্রাটা শুরু হয়েছিল ২০০৭ সালে ছোট্ট একটি কক্ষে মাত্র ১৭ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে। আর এই পথচলার মূল লক্ষ্য হিসেবে, জাগো ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা করভী রাখসান্দ, দেশের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদেরকে বিনামূল্যে মানসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থার সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়ার মাধ্যমে, দারিদ্র ও অশিক্ষা দূর করে বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধশালী জাতিতে রূপান্তর করতে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছিলেন। বর্তমানে বিভিন্ন রকম শিক্ষাকার্যক্রমের আওতায় সারা বাংলাদেশে প্রায় ১৩,০০০ হাজার জাগো শিক্ষার্থী বাংলাদেশের ঢাকা (বনানী, রায়ের বাজার), চট্টগ্রাম, রাজশাহী, গাইবান্ধা, মাদারীপুর, বান্দরবান, লক্ষ্মীপুর, হবিগঞ্জ, দিনাজপুর, রংপুর ও টেকনাফ এই ১২টি জেলায় বিনামূল্যে মান সম্পন্ন শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে।

একটি দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই থাকে যুবসমাজ। সমাজের অগ্রগতিতে যুবসমাজের ভূমিকাকে অপরিহার্য মনে করে ২০১১ সালে বাংলাদেশে প্রথম বারের মত স্বেচ্ছাসেবক অঙ্গসংস্থান হিসেবে জাগো ফাউন্ডেশন গড়ে তোলে ‘ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ’ (ভিবিডি)। ভিবিডি বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবায় যোগ করে তরুণ সমাজের এক নতুন উদ্যমতা, আর সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে সৃষ্টি করে জনসচেতনতা। বর্তমানে দেশের প্রায় অর্ধশতাধিক জেলায় ৩৫,০০০ স্বেচ্ছাসেবক দেশ ও মানবতার সেবায় আত্মনিয়োজিত রয়েছে।

জাগো এখন ৩ টি প্রোগ্রাম নিয়ে কাজ করছে ‘মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা’, ‘যুব উন্নয়ন কার্যক্রম’ ও ‘শরণার্থী সংকট নিরসন প্রোগ্রাম।

মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা :
একটি বৈষম্যহীন শোষণমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এবং আর্থ-সামাজিক ও অর্থনৈতিক গতিকে ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশের হাজার হাজার সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে বিনামূল্যে মানসম্মত শিক্ষা দেয়ার জন্য বিগত ১২ বছর ধরে জাগো নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। ২০১৭ সালে জাগো অন্যতম সম্মানসূচক ইউনেস্কো এওয়ার্ড অর্জন করে। আর এই পুরস্কারে ভূষিত হওয়ার মূল কারণ ছিল, বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি অনুমোদনক্রমে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে ডিজিটাল শিক্ষা পদ্ধতিতে মানসম্পন্ন শিক্ষা দেওয়ার দারিদ্র দূরিকরণের প্রকল্প বাস্তবায়ন।

বাংলাদেশের প্রথম অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে জাগো তাদের স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিমাসে ২০০০ টাকা পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে শিক্ষার আনুষঙ্গিক বিষয়াদি যেমন : বই, খাতা, স্কুল ড্রেস, জুতা, স্কুল ব্যাগ ইত্যাদি প্রদান করে সহায়তা করে। এছাড়াও স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিমাসে ঔষধ ও পুষ্টিকর খাবার বিতরণ করে। আর এ কারণে, জাগো সমাজের বিভিন্ন উঁচু স্তরের অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল ব্যক্তিদেরকে উৎসাহ যোগায়, এসব সুবিধাবঞ্চিত শিশুদেরকে সহায়তা প্রদানের জন্য।

যুব উন্নয়ন কার্যক্রম :
বর্তমানে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০% ই যুব সমাজ। এই সমাজের উন্নয়নে যুবকদের অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে ২০১১ সালে গড়ে তোলা হয় ভলানটিয়ার ফর বাংলাদেশ (ভিবিডি)। দেশকে আরো সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে বাংলাদেশের ৩২টি জেলায় ৩৫,০০০ জাগো ভলান্টিয়ার বিভিন্নরকম সামাজিক কর্মকান্ডে নিয়োজিত রয়েছে। যাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ২০৩০ সাল নাগাদ টেকসই উন্নয়নের ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে বাংলাদেশে মানসম্পন্ন শিক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে দরিদ্রতা দূর করা ও উন্নত স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা।

শরনার্থী সংকট নিরসন :
জাগো, ‘সেফ হ্যাভেন প্রজেক্ট’ নামে কক্সবাজারের উনছিপ্রাং এর রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে একটি প্রজেক্ট চালু করে এবং ভলানটিয়ার ফর বাংলাদেশ (ভিবিডি) প্রায় ৫০০ সুবিধাবঞ্চিত শিশুদেরকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদান করে।

জাগো প্রতি বছর রমজান মাসে একটি বার্ষিক ইফতার পার্টির আয়োজন করে। এই আয়োজনের মহৎ উদ্দেশ্য হল জাগোর সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের
সহায়তার জন্য যারা এগিয়ে আসেন তাদের সাথে জাগোর শিশুদের একটি সেতু বন্ধনের পথ সৃষ্টি করা।

২০১৭ সাল থেকে সফলতার সাথে জাগো ‘ন্যাশনাল ইয়ুথ এসেম্বলি‘ প্রোগ্রাম আয়োজন করে আসছে। মূলত এদেশের যুব সমাজকে একটি শক্তিশালী প্লাটফর্ম এর মাধ্যমে তাদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে আরো বেশি দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং তাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। সর্বোপরি, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা গুলো পূরণে আরো অগ্রগামী করে তোলা।

জাগোর ১ যুগের এই যাত্রা এটিই প্রমাণ করে যে, ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করলে সমাজের যে কোনো বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে আবার একটি শক্তিশালী জাতি গড়ে তোলা সম্ভব। জাগো পরিবার তাদের পাশে সবসময় সহযোগীতার হাতগুলো চায়, যাতে অনন্তকাল ধরে সফলতার সাথে এই পথ চলতে পারে।